অ্যাজমা বা হাঁপানি রোগের সাথে বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত পরিচিত।এদেশের হাসপাতাল গুলোতে কয়েক কদম ঘুরাঘুরি করলেই অ্যাজমা রোগীর দেখা মিলে। অ্যাজমা বা হাঁপানি বলতে দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহ-জনিত রোগকে বোঝায়, যার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শ্বাসনালীর অতি সংবেদনশীলতা, শ্বাসনালীর সংকোচিত হয়ে আসা এবং প্রদাহ।অ্যাজমা রুগী শ্বাস-প্রশ্বাস চালিয়ে নিতে প্রাণপন চেষ্টা করতে থাকে; মারাত্তক অ্যাজমা রোগীর চোখ দুটো কোটর থেকে বেরিয়ে আসার উপক্রম হয়, মুখ মন্ডল নীলাভ হয়ে যায় –এই দৃশ্য খুব সহজেই চোখে পড়ে ।

অ্যাজমা বা হাঁপানি কি ?

অ্যাজমা বা হাঁপানি বলতে মানব দেহের শ্বসনতন্ত্র তথা ফুসফুস ও শ্বাসনালীর শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়ায়প্রদাহ-জনিত দীর্ঘস্থায়ী রোগকে বুঝায় । এর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে-
– শ্বাসনালীর অতি সংবেদনশীলতা
– শ্বাসনালীর সংকোচিত হয়ে আসা এবং
– শ্বাসনালীর প্রদাহ

রোগের লক্ষন বা উপসর্গসূহ:

-শুকনা কাশি,সাধারনত রাতে বৃদ্ধি পাওয়া
-শ্বাস গ্রহনে সমস্যা হওয়া
-বুকে ভারি চাপ অনুভব করা
-কফ থাকতে পারে
-শ্বাস নেওয়ার সময় বাশির মতো শব্দ হওয়া
কাদের বেশি হয়?
*লিঙ্গ ভেদে পার্থক্য না হলেও, কর্মক্ষেত্রের ভিন্নতার কারনে সাধারনত পুরুষদের এই রোগ সামান্য বেশি হতে পারে।
কোন বয়সে বেশি হয়?
*অ্যাজমারোগ সাধারনত কম বয়সেই দেখা দেয়, তবে বড়দের ক্ষেত্রেও এই রোগ দেখা দিতে পারে । শতকরা ১০ ভাগ শিশুদের এবং ৫ ভাগ বয়স্কদের এই রোগ হয়।

কি কি কারনে অ্যাজমা প্রকোপ হতে পারে ?

  • বংশগত কারনে
  • অতিরিক্ত ধুলাবালির সংস্পর্শে আসলে
  • ধু্মপানজনিত কারনে
  • এলার্জিজনিত কারনে
  • ঠাণ্ডা জনিত কারনে
  • নোংরা পরিবেশে বসবাস করলে
  • শ্বাসনালী কিংবা ফুসফুসে প্রদাহজনিত কারনে
  • কোনো কোনো ক্ষেত্রে অন্য কোনো ঔষধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায়
  • কল-কারখানা , গাড়ির দুষিত ধোঁয়ার কারনে
  • এছাড়াও আবহাওয়ার তারতম্য, শারীরিক পরিশ্রম, খাদ্যাভ্যাস ইত্যাদি কারন অ্যাজমা সাথে জড়িত ।

 কোন সময় হয় ?

বছরের যে কোনো সময়ে এই রোগ দেখা দিতে পারে , তবে শীতকালে এই রোগের প্রকোপ অধিক হারে বৃদ্ধি পায় ।

কি কি পরীক্ষা করাতে হবে ?

কোন রোগীর অ্যাজমা উপসর্গগুলো দেখা দিলে চিকিৎসক কয়েকটি ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে নেন ।সাধারনত নিন্মোক্ত পরীক্ষাগুলোর করা হয়ঃ
-স্পাইরোমেট্রি
-কফ পরীক্ষা
-বুকের এক্স-রে
-রক্ত পরীক্ষা
-ধমনীতে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমান নির্ণয় পরীক্ষা
-এলার্জি পরীক্ষা ইত্যাদি ।

চিকিৎসাঃ

চিকিৎসক যদি কোন রুগীর অ্যাজমা আছে বলে নিশ্চিত হন তাহলে তিনি নিন্মোক্ত চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র দিয়ে থাকেনঃ

  • ইনহেলারঃ ইনহেলার শ্বাসনালীর প্রসারনে সহায়তা করে ।সাধারনত সালবুটামল, সালমেটেরল, থিওফাইলিন কিংবা ইপ্রাট্রোপিয়াম ব্রোমাইড ইনহেলার হিসেবে ব্যবহার করা হয় ।
  • কর্টিকোস্টেরয়েডঃ কর্টিকোস্টেরয়েড সাধারনত প্রদাহনিরাময়ে সহায়তা করে । এছাড়া এটা ইনহেলারের কার্যকরীতা বাড়িয়ে অ্যাজমা প্রকোপ কমাতে সাহায্য করে । কর্টিকোস্টেরয়েড হিসেবে সাধারনত ফ্লুটিকাসোন, ব্যাক্লোমিথাসোন, প্রেডনিসোলন ইত্যাদি ব্যবহার করা হয় । কর্টিকোস্টেরয়েড ইনহেলার কিংবা ট্যাবলেট আকারে পাওয়া যায় ।
  • এন্টি-হিস্টামিনঃ এলার্জি প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে ।
  • এন্টিবায়োটিক (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
  • অক্সিজেন থেরাপি
  • ইমিউনোথেরাপি
  • কফ সিরাপ

সুস্থ্য থাকতে হলে করণীয়ঃ

  • ধুমপান পরিহার করতে হবে
  • ধুলাবালি পরিহার করতে হবে
  • পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে
  • বাসা বাড়িতে পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা থাকতে হবে
  • এলার্জি জাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে
  • শীতকালে অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহন করতে হবে । পরিবারের অন্য কারো অ্যাজমা সমস্যা থাকলে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে ।
  • কোন লক্ষন দেখা দেওয়ার সাথে সাথে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহন করতে হবে ।

-Dr. Abdul Quaium Auchin

Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •   
  •   
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •