ডায়াবেটিস বা বহুমূত্ররোগ কি?

ডায়াবেটিস বা বহুমূত্ররোগ বলেত সাধারনত রক্তে  গ্লুকোজ বা শর্করার পরিমান বেড়ে যাওয়ার ফলে প্রস্রাবের সাথে শরীর থেকে গ্লুকোজ বের হয়ে যাওয়াকে বুঝায়। কিন্তু সকল ডায়াবেটিস রোগীর প্রস্রাবের সাথে গ্লুকোজ নাও বের হতে পারে।

ডায়াবেটিস একটি মারাত্মক রোগ। কেউ কেউ একে অন্যান্য সকল মারাত্মক রোগের জননী বলে অভিহিত করে থাকেন। কাঠে ঘুণ ধরলে যেমন এর স্থায়িত্ব নষ্ট হয়ে যায়, তেমনি ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত থাকলে তাড়াতাড়ি শরীর ভেঙ্গেপড়ে এবং সকল রোগ শরীরে বাসা বাধে।আমাদের হার্ট, কিডনী, চোখ, দাঁত, স্নায়ু তন্ত্র-এ গুরুত্বপূর্ণ অংগ গুলো সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস হতে পারে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের কারণে।

ডায়াবেটিস কত রকম?

– ডায়াবেটিস সাধারনত দুই ধরনের হয়ে থাকে : টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস ও টাইপ টু ডায়াবেটিস।

টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস বলতে জন্মগত ইনসুলিনের অভাব   জনিত কারনে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যাওয়াকে বুঝায়। সাধারনত শিশু বয়েসই এর লক্ষন দেখা যায়।
টাইপ টু ডায়াবেটিস বলতে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে শরীরের কোষগুলোর উপর ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা হ্রাস পাওয়া কিংবা ইনসুলিনের অপর্যাপ্ত উৎপাদনজনিত কারনে শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যাওয়াকে বুঝায়।
আরেক ধরেনর ডায়াবেটিস আছে যাকে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বলে যেটা মহিলাদের গর্ভাধারন কালীন অবস্থায় হয়ে থাকে।

কি কারনে হয়ে থাকে ?

ডায়াবেটিস হওয়ার নির্দিষ্ট কোন কারন এখনো জানা যায় নি । বংশগত কারনেই বেশির ভাগ ডায়াবেটিস হয়ে থাকে । তবে পরিবেশগত ও শারীরিক কিছু কারনেও ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে । এর মধ্যে বয়স চল্লিশ বা তদূর্ধ্ব হলে , শরীর মুটিয়ে গেলে । ওজন অতিরিক্ত মাত্রায় বৃদ্ধি পেলে, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম না করা, তেল, চর্বি ও কোলেস্টেরল জাতীয় খাবার অধিক মাত্রায় গ্রহন করলে , ধূমপান করা, উচ্চ রক্তচাপ , মানসিক চাপে থাকা ইত্যাদি ডায়াবেটিস রোগ হওয়ার অন্যতম কারন ।

 লক্ষণসমূহ:

-ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া

-অতিরিক্ত তৃষ্ণা পাওয়া

-হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া

-অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগা

-দুর্বল বোধ করা

-শরীরে কাঁপুনি ধরা

-অচেতন হয়ে যাওয়া

-দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে যাওয়া

-শরীরের বিভিন্ন স্থানে ঘা হওয়া

-সহবাসে অনীহা দেখা দেওয়া

-মহিলাদের মুত্রনালী কিংবা যোনিতে ইনফেকশন হওয়া ইত্যাদি ।

* তবে অনেকের ক্ষেত্রে কোন লক্ষন প্রকাশ করা ছাড়াই শরীরে ডায়াবেটিস রোগ বাসা বেঁধে থাকে । অন্য কোন রোগে শারীরিক চেক আপ করানোর সময় এই রোগ টি ধরা পড়ে ।

 ডায়াবেটিস রোগীর ফলো আপ

  • নিয়মিত রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ নির্ণয়
  • রক্তের HbA1C পরীক্ষা
  • প্রস্রাবে গ্লুকোজ, কিটোন বডি,প্রোটিন(এলবুমিন) এর মাত্রা নির্ণয়
  • দৈহিক ওজন পরিমাপ (BMI)
  • নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করা
  • প্রয়োজনমত ইসিজি ও করতে হতে পারে ।

ডায়াবেটিস রোগের নিয়ন্ত্রন:

>ডায়াবেটিস রোগটি কখনো পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব নয় । তবে সঠিক নিয়ম- নির্দেশনা মেনে চললে এটি নিয়ন্ত্রন করে সুস্থ থাকা সম্ভব । এক্ষেত্রে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সহযোগিতা আবশ্যক ।

 ডায়াবেটিস রোগীর করণীয়:

-নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে

–পরিমিত পরিমানে খাবার গ্রহন করতে হবে

– তেল, চর্বি , কোলেস্টেরল জাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে

-মিষ্টি জাতীয় খাবার বর্জন করতে হবে

-পর্যাপ্ত পরিমানে পানি খেতে হবে

– পর্যাপ্ত পরিমাণ শাকসবজি খেতে হবে

– পরিমাণ মতো তাজা ফল খেতে হবে

– লবন কম খাওয়া উচিৎ

-ধূমপান, মদ ইত্যাদি নেশা জাতীয় বস্তু পরিহার করতে হবে

* খাবারে পেঁয়াজ খাওয়া ও দারুচিনী দিয়ে চা খাওয়া ডায়াবেটিস রোগীর জন্য উপকারি ।

>ডায়াবেটিক রোগীদের খাদ্যাভাস এমনভাবে গড়ে তোলা দরকার যাতে শরীরের ওজন কাম্য সীমার উপরে বা নীচে না যায়।

>এছাড়া ডায়াবেটিস রোগিকে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে ।

-Dr. Abdul Quaium Auchin

Please follow and like us:
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)